অর্থবছর শেষ হওয়ার এক মাস আগেই রেমিট্যান্স এল ৩২.৭৬ বিলিয়ন ডলার

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই প্রবাসীরা ৩ হাজার ২৭৬ কোটি বা ৩২ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন।

গত অর্থবছরের পুরো মেয়াদে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যমান প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ সাড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানানো হয়, সদ্য শেষ হওয়া মে মাসে প্রবাসীরা ৩ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। গত অর্থবছরের একই মাসে এসেছিল ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে গত মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ অর্থবছরের ১১ মাসের (জুলাই-মে) হিসাব আমলে নিলে এ প্রবৃদ্ধি ১৯ শতাংশের বেশি।

জানা গেছে, গত ডিসেম্বর থেকে প্রতি মাসেই দেশে ৩ বিলিয়ন ডলারে বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। এর মধ্যে ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ২২, জানুয়ারিতে ৩ দশমিক ১৭, মার্চে ৩ দশমিক ৭৫ এবং এপ্রিলে ৩ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার দেশে এসেছে।

এদিকে রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে গতকালও বাজার থেকে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঈদুল আজহার টানা সাতদিনের ছুটি শেষে সোমবার ছিল প্রথম কর্মদিবস। এ দিন চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার কিনেছে বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে প্রতি ডলারের দর ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজার থেকে ৬ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্বাহী পরিচালক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০২৪ সালের আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মে মাসে ঈদুল আজহা থাকায় প্রবাসী আয় বেশি এসেছে। আশা করছি, জুন শেষে চলতি অর্থবছরে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।’

এদিকে রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছে। গতকাল দিন শেষে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী (বিপিএম৬) রিজার্ভের স্থিতি ৩০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার ছিল।

উল্লেখ্য, দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে বিরাজমান উল্লম্ফন শুরু হয়েছিল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান তথা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর প্রবাসীরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বৈধ পথে বেশি পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠাতে থাকেন। গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) দেশে রেকর্ড ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স আসে। ওই অর্থবছরে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়েও অনেক বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন।

আরও